অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে ১২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
আজ রবিবার (১০ মে) ২০২৬ তারিখ পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নু জেলার ফতেহ খেল এলাকায় এই প্রাণঘাতী হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বান্নু পুলিশের কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাজ্জাদ খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার দিবাগত রাতে এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি দ্রুতগামী গাড়ি নিয়ে পুলিশ চেকপোস্টে সজোরে আঘাত করে। বিস্ফোরণের পরপরই একাধিক সশস্ত্র বন্দুকধারী ওই চেকপোস্টে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এই ঘটনায় ১২ জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৫ জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। এছাড়া একজন পুলিশ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পেশোওয়ার থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। বান্নুর একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্রোহীরা হামলার সময় শুধু ভারী অস্ত্রই নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির ‘কোয়াডকপ্টার’ বা ছোট ড্রোনও ব্যবহার করেছে। চেকপোস্টে তাণ্ডব চালানোর পর পিছু হটার সময় হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের কাছে থাকা সরকারি অস্ত্রগুলোও লুট করে নিয়ে গেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় এই ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা ও চাপ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে সশস্ত্র হামলাকারীদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও কাবুলের তালেবান প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছে যে, আফগান ভূখণ্ড কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য নয়। সম্পর্কের এই তিক্ততা এতটাই বেড়েছে যে, গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানের বিভিন্ন সীমান্ত শহরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে বান্নুতে এ ধরনের চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী হামলার প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর বারবার এমন আক্রমণ দেশটিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করছে। আজকের এই ১২ জনের প্রাণহানি এবং ড্রোন ব্যবহারের ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে, বিদ্রোহীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হয়ে উঠছে, যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



