অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একাধিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ দিন ধরে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ রবিবার (১০ মে) ২০২৬ তারিখ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল করিম নূরানী মাদরাসায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি জানাজানি হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ ওই মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন এবং তিনি শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে এক শিশু শিক্ষার্থীসহ একাধিক শিক্ষার্থীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর বিষয়টি ধরা পড়ে এবং ওই শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষকের অপকর্মের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। এরপর আরও কয়েকজন অভিভাবক তাদের সন্তানদের সাথেও একই ধরণের আচরণের অভিযোগ তুলে মুখ খুলতে শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার মাদরাসা প্রাঙ্গণে একটি স্থানীয় সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করার পর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
মাদরাসার প্রধান বা মুহতামিম মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ শিক্ষকের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত কঠোর এবং অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান যে, তারা লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।



