অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
বেনাপোলের শার্শায় পরকীয়া ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ইকরামুল কবির নামে এক যুবককে হত্যার পর গোয়ালঘরে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ রবিবার (১০ মে) ২০২৬ তারিখ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ৪ জনকে আদালতে পাঠিয়েছে শার্শা থানা পুলিশ। এর আগে দীর্ঘ ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় বসতপুর গ্রামের জনৈক আল ফুয়াদের বাড়ির গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে কবিরের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপরাধীরা মরদেহটি মাটির নিচে পুঁতে দিয়ে উপরে সিমেন্টের ঢালাই করে দিয়েছিল যাতে কেউ টের না পায়।
নিহত ইকরামুল কবির শার্শার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। পুলিশি অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন—মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) এবং ফরহাদ হোসেন (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। গত ১ মাস ৫ দিন আগে ইকরামুল তার প্রেমিকার কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী আল ফুয়াদ ও মুন্নীকে জেরা করলে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক এই তথ্য। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে কবিরের দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতা এবং পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রমাণ মুছে ফেলতেই মরদেহটি মাটির নিচে পুঁতে সিমেন্ট ঢালাই করা হয়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আটক চারজনকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



