অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় তাঁর জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে সরকারের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয়লাভ করে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর সমর্থনে তিনি সরকার গঠন করেন। নির্বাচনের আগে জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, বিজয় এক বিশাল জয় পাবেন—যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়। এই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ওই জ্যোতিষীকে প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। রাধান পণ্ডিত কেবল একজন জ্যোতিষীই নন, তিনি বিজয়ের দলের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময় জুড়ে বিজয়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন। এমনকি ভোট গণনার দিন জয়ের আভাস পাওয়ামাত্রই তিনিই প্রথম বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
এই নিয়োগের খবর জানাজানি হওয়ার পর বিজয়ের জোটসঙ্গী দলগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল ডিএমকে, যারা প্রগতিশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক রাজনীতির চর্চা করে, তারা এই পদক্ষেপকে কুসংস্কারের প্রচার হিসেবে দেখছে। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জ্যোতিষীদের প্রভাব নতুন কিছু নয়; এর আগে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতারও ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা ছিলেন এই রাধান পণ্ডিত। তবে সে সময় জয়ললিতার জেল হওয়া সংক্রান্ত তাঁর একটি ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে জ্যোতিষীর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা সংশয় প্রকাশ করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের ক্যারিয়ারের শুরুতেই এই বিতর্ক তাঁর সরকারের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। জোট সরকার পরিচালনার চ্যালেঞ্জের মুখে এমন একটি সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত তাঁর মিত্রদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেবল আধ্যাত্মিক বা জ্যোতিষবিদ্যার ওপর ভিত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দেওয়ায় জনমনেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বিজয় তাঁর এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন কি না।



