অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় প্রশাসন ও গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ওসিসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীমের নেতৃত্বে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা ১০টি স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছিল। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযান চলাকালে ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়, যাতে ইউএনও নিজে পায়ে আঘাত পান। এছাড়া রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম, ৪ জন আনসার সদস্য এবং ৫ জন সরকারি কর্মচারীসহ মোট ১১ জন প্রশাসনিক লোক আহত হন। হামলাকারীরা এসময় সরকারি গাড়ির কাঁচও ভাঙচুর করে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষক ওমর ফারুকসহ গ্রামবাসীদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, অভিযানের সময় কৃষিকাজে ব্যবহৃত তিনটি সেচ মেশিন ভেঙে ফেলা হয়, যা নিয়ে প্রতিবাদ জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়। এই গুলিবর্ষণে অন্তত চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন। তবে বিনা কারণে গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও কাজী শামীম। রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তারা ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিগত বেশ কিছু সময় ধরে ওই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষির হুমকির কথা জানিয়ে আসছিল প্রশাসন। আজকের এই অভিযানে বড় ধরনের সংঘর্ষের ফলে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, সরকারি কাজে বাধা দান ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে গ্রামবাসী তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিচার দাবি করেছেন।



