অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে প্রবাসী স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরো করার পর হাড় ও মাংস আলাদা করে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন স্ত্রী আসমা আক্তার।
গত ১২ মে মঙ্গলবার রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর বাজারের গ্রামীণ ব্যাংকের পেছনের এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা এবং একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। অভিযুক্ত আসমা আক্তার পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। জিয়া সরদার মালয়েশিয়া থাকাকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসমার সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং আট বছর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটি ছিল দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর জিয়া সরদার আসমাকে শরীয়তপুর শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখতেন। গত বছর জিয়া সরদার দেশে ফেরার পর তারা চন্দ্রপুর বাজারের পেছনের ওই ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
অভিযুক্ত আসমা আক্তারের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তার স্বামী তাকে প্রায়ই মারধর করতেন। গত ১২ মে রাতে পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসমা তার স্বামীর মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আঘাতের তীব্রতায় জিয়া সরদার মারা গেলে আসমা আক্তার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি চাকু দিয়ে লাশ কেটে ছয়টি টুকরো করেন এবং হাড় থেকে মাংস আলাদা করে তিন দিন ধরে একটি ড্রামে ভরে রাখেন। এরপর গত ১৫ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি একটি অটোরিকশা ভাড়া করে লাশের খণ্ডিত অংশগুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
আসমা আক্তার লাশের চার হাত-পা সাদা প্লাস্টিকে মুড়িয়ে নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে ফেলে দেন এবং দেহের বাকি অংশ বস্তায় ভরে শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা নামক স্থানে একটি পুকুরে ফেলে আসেন। এরপর তিনি দেহের অবশিষ্ট মাংসগুলো নিয়ে শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকার সেই পুরানো ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান। পচা মাংস ফ্রিজে রাখার চেষ্টার সময় সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে স্থানীয় রানু বেগমসহ অন্যান্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে নিহতের মাংস উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার পুলিশের কাছে অকপটে তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বৃক্ষতলা এলাকার পুকুর থেকে জিয়া সরদারের মাথাসহ হাড়ের অংশ এবং নড়িয়া থানা পুলিশের সহায়তায় পদ্মা নদীর তীর থেকে খণ্ডিত চার হাত-পা উদ্ধার করা হয়। নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইনগত তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



