পরীক্ষামূলক সংস্করণ

‘ভারত থেকে উঁকিঝুঁকি মারছেন শেখ হাসিনা’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার জন্য নানা উপায়ে উঁকিঝুঁকি মারছেন এবং দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক মিছিল নামানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের উন্নয়ন নীতি এবং আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টন ইস্যু নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি বর্তমান সরকারকে চরম সতর্ক করে বলেন, যদি কোনোভাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশ করার সুযোগ পান, তবে ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রথম কোপ এবং প্রথম গুলিটি চালাবে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ওপর।

বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে অতীতের নির্মম রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তরুণ এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, অতীতে এই অপশক্তির হাতেই দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারেক রহমান যদি এই রাজনৈতিক ইতিহাস সঠিকভাবে না জানেন এবং পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগের সাথে কোনো প্রকার আপস বা সমঝোতা করেন, তবে তাঁর বাপের (জিয়াউর রহমান) যে করুণ পরিণতি হয়েছিল, সন্তানেরও একই পরিণতি হতে পারে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ ও বিএনপি একই সাথে রাজপথে লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি তারেক রহমানকে কড়া ভাষায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ করবেন না’। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি বিএনপি কোনো সমঝোতার পথ বেছে নেয়, তবে দেশের সচেতন তরুণ সমাজ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগকে একই পাল্লায় মেপে তাদের বিরুদ্ধেও রাজপথে ফ্রন্ট লাইনে নতুন যুদ্ধ ঘোষণা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

জনগণের ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে লক্ষ্য করে বলেন, বাংলাদেশে যদি অনতিবিলম্বে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কারসমূহ বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে আপনাদের ক্ষমতার গদি থাকবে কি না— সেই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না। দেশের জনগণ যে ম্যান্ডেট ও রক্তক্ষয়ী সমর্থন দিয়েছে, সেই জনগণের ভোটের বাক্সে যদি এখন নতুন করে কোনো পক্ষ লাথি মারার দুঃসাহস দেখায়, তবে দেশের জনগণও তাদের গদিতে লাথি মারতে পিছপা হবে না। এছাড়া সরকারের দেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ডিজিটাল কার্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি নিজের জন্মস্থান চাঁদপুরের উদাহরণ টেনে বলেন, বিগত দিনে চাঁদপুরের কোনো প্রকৃত উন্নয়ন হয় নাই, রাজশাহীরও কোনো উন্নয়ন হয় নাই; সাধারণ মানুষ শুধু পকেটে নিয়ে ঘোরার জন্য কতগুলো অর্থহীন কার্ড পেয়েছে। এই কার্ডগুলোতে যদি দ্রুত টাকা না আসে, তবে দেশের মানুষ সরকারের হাতে একটি নতুন কার্ড ধরিয়ে দেবে, যার নাম হবে ‘লাল কার্ড’।

আজকের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী রাজশাহী থেকে ভারতের অন্যায় পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল যুদ্ধ ও আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মওলানা ভাসানীর সেই ঐতিহ্যবাহী ‘ধানের শীষ’ মার্কাকে বিএনপি নিজেদের করে নিলেও, তারা আজকে ভারতের সামনে একটি সম্পূর্ণ নতানু ও দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করে চলছে। তিনি বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি ভাসানীর মার্কা ব্যবহার করতে হয়, তবে তাঁর আপসহীন নীতিও গ্রহণ করতে হবে; অন্যথায় ভাসানীর মার্কা সাধারণ মানুষের কাছে ফেরত দিতে হবে। নদীতে মূল পানির প্রবাহ না এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল খনন কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি একে ‘উল্টো বিজ্ঞান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, খাল খনন করতে হলে তো আগে আমাদের মূল নদীতে পানি সচল থাকতে হবে। বর্তমান সরকার যদি ভারতের সামনে গিয়ে কেবল ‘নমো নমো’ বা নতজানু নীতি দেখায়, তবে দেশের পানির অধিকার মিলবে না। তাই তিনি রাজশাহীবাসীকে পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে প্রয়োজনে ঢাকা অভিমুখে এবং সরাসরি ভারতের দিকে পুনরায় বিশাল লংমার্চ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

এনসিপির রাজশাহী মহানগরের সম্মানিত আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আতিকুর রহমানের সুচারু পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই মেগা যোগদান অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রথম সারির ছাত্রনেতা ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ রাজশাহীর স্থানীয় প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

প্রধান খবর

আসছে...