বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং এমপিওভুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও রাজপথেই ‘ঈদ বর্জন’ কর্মসূচি পালন করছেন দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা।
সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ সমিতি’র ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সমবেত হয়ে এই অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। গত ২১ মে থেকে টানা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন বলে শিক্ষকরা জানান। সংগঠনের আহ্বায়ক মো. শামছুল হক আনসারী জানান, সারা দেশে এই অনুদানভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী শিক্ষক মাসে মাত্র ৩ হাজার ৩০০ টাকা এবং প্রধান শিক্ষক মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান বা ভাতা পান। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই সামান্য অর্থ দিয়ে কোনো শিক্ষকের পক্ষেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দিন আগে সরকারের একজন মন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন; তাহলে মাত্র ৩ হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পেয়ে একজন সহকারী শিক্ষক কীভাবে সংসার চালাবেন, তা সরকারের কাছে তাদের বড় প্রশ্ন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করে আসলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যার ফলে পবিত্র ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ না কাটিয়ে রাজপথে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঈদের আগেই তারা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন। এরপর এক জরুরি বৈঠকে শিক্ষকরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় পাঠদানসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন এবং একই সঙ্গে ‘ঈদ বর্জন’ করে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। শিক্ষকদের মূল দাবি হলো, গত বছর প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ‘অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে তারা জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করেন। কিন্তু প্রায় ১০ মাস সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একটি মাদরাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ শূন্য পদে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। ফলশ্রুতিতে সারা দেশের প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তাদের এই ন্যায্য আর্থিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।



