ফেরিঘাটে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি, অনিয়ম এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর পেছনে জড়িত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। একই সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী সময়ে ফেরি চলাচলকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ওঠা ফেরি আটকে রাখার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (৩১ মে) রাতে হাতিয়ার নলচিরা ফেরিঘাটে ফেরি ‘মহানন্দা’ ছাড়তে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে আজ সোমবার (১ জুন) সংসদ সদস্যের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই অবস্থান পরিষ্কার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়েই নলচিরা ফেরিঘাটে পৌঁছান হান্নান মাসউদ। তবে ঘাটে পৌঁছানোর পর তাকেও প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে না তুলে দীর্ঘ সময় ধরে ঘাটের প্রধান সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। এমপি হান্নান মাসউদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল ও অসাধু ঘাট সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে এই কৃত্রিম পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সংসদ সদস্যকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং সরকারের ফেরি ব্যবস্থাপনাকে বিতর্কিত করে তোলা। তিনি ঘাটে পৌঁছানোর আগেই ওই চক্রটি বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে উঠতে বাধা দেয় বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে হান্নান মাসউদ সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিএনপির কিছু লোক এবং একটি অসাধু চক্র আমার নামে অপপ্রচার চালানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেছিল। আমি ঘাটে গিয়ে দেখি, অকারণে যানবাহন আটকে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে আমি নিজে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিই।’ তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘সাধারণ যাত্রী হোক কিংবা ভিআইপি—কারও জন্যই ফেরি নিয়মের বাইরে অপেক্ষা করবে না। নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই ফেরি চলাচল করতে হবে।’ যারা ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে কালো সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য এই ফেরি সেবা চালু হলেও একটি চক্র নানা সময়ে এ সেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ফেরি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



