নেত্রকোণা শহরের কাটলী এলাকায় এক রিকশাচালকের ধারালো অস্ত্রের হামলায় মনোয়ারা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়েছেন এবং তার স্বামী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে নেত্রকোণা শহরের কাটলী এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ারা বেগমের বয়স ৫৫ বছর। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ৬০ বছর বয়সী স্বামী আবু চান এবং ২৫ বছর বয়সী ছেলে মুন্না মিয়া। হামলার ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকার ও সুযোগ বুঝে একই এলাকার আব্দুর রশিদ নামের এক রিকশাচালক ওই বাসায় প্রবেশ করে এই নৃশংস হামলা চালায়।
হামলাকারী আব্দুর রশিদ পূর্বপরিচিত হওয়ায় ওই বাসায় যাতায়াত করত এবং প্রায়ই টাকা ধার নিত। ঘটনার রাতে সে বাসায় ঢুকে প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এ সময় মনোয়ারা বেগমের ছেলে মুন্না মিয়া তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারী তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে মুন্নার বাবা আবু চান তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রশিদ তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। রাত ৯টার দিকে নিহত মনোয়ারা বেগমের মেয়ে লিযা মণি বাসায় ঢুকে তার বাবা ও ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বাসার ভেতর থেকেই হামলাকারী আব্দুর রশিদকে আটকে ফেলেন।
স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ছেলে মুন্না মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের হাতে থাকা হামলাকারী রশিদকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। একই সাথে পুলিশ খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। ঘটনার পর থেকেই জেলা পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পিবিআই এই হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



