রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জগঠন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে যে, প্রধান আসামি সোহেল রানা ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর গোপনাঙ্গ ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত ও পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করায় ডিএনএ টেস্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি।
সোমবার (১ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আদালতের সামনে উল্লেখ করেন যে, আসামি সোহেল রানা অত্যন্ত কৌশলে ভুক্তভোগী শিশুর শরীর থেকে ধর্ষণের সমস্ত আলামত মুছে ফেলেছে। সে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর প্রথমে ছুরির আঘাতে তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং পরবর্তীতে পানি দিয়ে সম্পূর্ণ স্থানটি ধুয়ে ফেলে পুলিশকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই কারণে পরবর্তীতে নিহতের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও সেখানে ধর্ষণের কোনো আলামত বা বীর্যের উপস্থিতি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিন সকাল পৌনে ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই আসামিকে কারাগার থেকে মহানগর আদালতের হাজতখানায় হাজির করা হয়। হাজতখানায় আনা-নেওয়ার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বারবার চিৎকার করে বলতে থাকেন, “ধর্ষণ করছে ডলার। তাকে ধরেন। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছেও ডলার। সেই কাম করছে। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি। কিন্তু পারিনি।” একই সাথে আদালতে তোলার সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট করা হয়নি বলেও দাবি করেন এই আসামি। বেলা ১১টা ৯ মিনিটে বিচারক এজলাসে বসলে রাষ্ট্রপক্ষ ও সরকার নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আইনি বিতর্ক ও শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ আদালতে দাবি করেন যে আসামিরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। যেহেতু রামিসার ডিএনএ রিপোর্টে আসামির বীর্যের উপস্থিতি মেলেনি এবং এই মামলার কোনো চাক্ষুষ বা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই, তাই তিনি আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান। আসামির মুখরোচক ‘ডলার’ নামের কারও অস্তিত্বের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং আসামি তাকে এ ব্যাপারে আগে কিছু জানায়নি বলেও উল্লেখ করেন।
ডিএনএ টেস্টে আলামত না মেলার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, নিখুঁত ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য আক্রান্ত স্থানটি সম্পূর্ণ শুকনা অবস্থায় থাকা প্রয়োজন। কোনো নমুনা ভেজা বা পানির সংস্পর্শে আসলে ডিএনএ-এর উপাদান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সেখানে পরীক্ষা করা বৃথা হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, তদন্ত কর্মকর্তা এই আলামত ধ্বংসের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন এবং আসামি বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ‘ডলার’ নামের কাল্পনিক চরিত্রের অবতারণা করে মিথ্যা বলছে। উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হলে সোহেল রানা নিজে অপরাধ স্বীকার করেছিল। পরবর্তীতে গত ২৪ ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে নিখুঁত চার্জশিট জমা দিলে সোমবার তার ভিত্তিতে বিচারকাজ শুরু হলো।



