মালয়েশিয়া থেকে দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশে ফেরা আরিফুল ইসলামকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আরিফুলসহ একই পরিবারের ৪ সদস্য ও চালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আরিফুল ইসলামের বয়স ৩০ বছর। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। পরিবারের মুখে আর্থিক সচ্ছলতা ও হাসি ফোটাতে দীর্ঘ এক দশক বা প্রায় ১১ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কঠোর পরিশ্রমের পর গতকাল দিবাগত রাতে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্বাগত জানিয়ে প্রাইভেটকারযোগে নিজেদের যশোরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ভোররাতে এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই চালকসহ ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।
এই নৃশংস দুর্ঘটনায় প্রবাসী আরিফুল ইসলামের পাশাপাশি তার সাথে থাকা ৬০ বছর বয়সী মা নুরজাহান বেগম, ৩২ বছর বয়সী বোন আয়েশা আক্তার এবং ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম চিরদিনের জন্য বিদায় নেন। একই সাথে প্রাইভেটকারের চালক ও পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার গৌরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হোসেনও ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে এই ভয়াবহতার মাঝেও অলৌকিকভাবে এবং অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছে আরিফুলের বোনের তিন বছর বয়সী মেয়ে মোছা. তাসফিয়া ও ছয় বছর বয়সী ছেলে মো. হুসাইন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বালিয়াডাঙ্গা ও খোশালনগর গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অভিশপ্ত দুর্ঘটনার পর পরিবারটিতে এখন মাত্র একজন সদস্যই জীবিত বেঁচে আছেন, তিনি হলেন আরিফুলের বৃদ্ধ বাবা শহিদুল ইসলাম। আরিফুল দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরায় এবং সামনে খুশির ঈদ থাকায় পুরো পরিবারটি আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল। এমনকি আরিফুলের বিয়ের জন্য আগামীকাল বুধবার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়ে দেখতে যাওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি ও কথা পাকা ছিল। বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিস-উর রহমান জানান, নিহত প্রবাসীর মা নুরজাহান বেগম ওই এলাকার সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করায় স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো যশোর জেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



