উত্তরাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। মাঠে দীর্ঘ সময় কাজ করতে না পারায় ধান ও ভুট্টা কাটার কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে শ্রমিকদের দৈনিক আয়।
বর্তমানে রংপুর অঞ্চলে বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকরাও কাটা ফসল শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে কয়েক দিনের তীব্র গরমে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা কিছুক্ষণ কাজ করার পরই ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষি শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগেও বৃষ্টির কারণে মাঠে কাজ ব্যাহত হয়েছিল। এখন বৃষ্টি না থাকলেও তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন সংকট তৈরি করেছে। আগে যেখানে কয়েক ঘণ্টায় ধান ও ভুট্টা কাটা সম্ভব হতো, এখন একই কাজ করতে প্রায় তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। ফলে শ্রমিকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার শ্রমিক ও কৃষকদের ভাষ্য, প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে অবিরাম ঘাম ঝরছে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে না পারায় অনেকেই কম মজুরি পাচ্ছেন। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে তারা মাঠে কাজ করলেও অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
নারী কৃষি শ্রমিকরাও তাপপ্রবাহের কারণে মাঠে দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না। ফলে অনেকেই বাড়িতে ধান ও ভুট্টা শুকানোর কাজে যুক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকদের ফসল কাটতেও বাড়তি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। কালীগঞ্জের রিকশাচালকদের দাবি, অতিরিক্ত গরমে মানুষ কম বাইরে বের হওয়ায় যাত্রী সংখ্যা কমেছে। ফলে তাদের আয়ও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকালে রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত ছয় দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৬ থেকে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠে এখনও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধান ও ভুট্টা রয়েছে। কৃষকদের দুপুরের প্রখর রোদ এড়িয়ে কাজ করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



