কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রধান টার্মিনাল ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং কিছু ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাউদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি জানান, একটি শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন বিমানবন্দরের মূল যাত্রী টার্মিনালকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কুয়েতের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, বিমানবন্দরে জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হামলার আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতের দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ব্যর্থ হয়েছে এবং একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে।
এদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। উভয় পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা বললেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিমান চলাচল এবং জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।



