ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর আদাবর-শ্যামলী এলাকা থেকে একটি চক্রের মূলহোতাসহ ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব রাত এগারোটার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসলে ৩ থেকে ৪ জন যুবক দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তার মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর আসামিরা তার পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায় এবং উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে জাহিদ হোসেন নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ৯ জন হলেন জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) এবং মো. মর্তুজা তামিম (২৬)। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই চক্রটি মূলত মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ভোরের দিকে একা থাকা ব্যবসায়ী ও পথচারীদের টার্গেট করে অপহরণ ও ছিনতাই করত। চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী ২০ বছর বয়সী জাহিদ হোসেন এবং তারসহ আরও দুই আসামির নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এরা ভুক্তভোগীর মোবাইল ব্যবহার করে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করত এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা এনে এজেন্টের কাছ থেকে ক্যাশআউট করে ভুক্তভোগীকে ফেলে চলে যেত। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।



