ঢাকার নবাবগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে নিখোঁজের ৮ দিন পর নারায়ণ সরকার নামের এক থাইগ্লাস মিস্ত্রীর এবং ধলেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি স্থান থেকে একই দিনে দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ও দুপুরে উপজেলার ভিন্ন দুটি এলাকায় থানা পুলিশ এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এর মধ্যে একজন থাইগ্লাস মিস্ত্রীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও, উদ্ধার হওয়া অপর নারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সনগরের আড়িয়াল বিলে। সেখান থেকে নারায়ণ সরকার নামে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নারায়ণ সরকার উপজেলার বড় বক্সনগর চৌরাহাটি গ্রামের নরেন সরকারের ছেলে এবং পেশায় একজন থাইগ্লাস মিস্ত্রি ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে সকালে নারায়ণ সরকার তাঁর প্রতিবেশী নিখিল রাজবংশী ও জগদীশের সাথে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে আড়িয়াল বিলে যান। ওই দিন দুপুরে নিখিল রাজবংশী ও জগদীশ সরকার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে এলেও নারায়ণ সরকার আর ফিরে আসেননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে নিবিড় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে নারায়ণ সরকারের স্ত্রী চম্পা রানী বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সঙ্গী নিখিল রাজবংশী ও জগদীশকে গ্রেফতার করে।
জিডির পর বৃহস্পতিবার নিখোঁজের ৮ দিন অতিবাহিত হলে নারায়ণ সরকারের স্বজনরা তাঁকে খুঁজতে আবারও আড়িয়াল বিলে যান। সেখানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাঁরা বিলের পানিতে নারায়ণ সরকারের মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে প্রেরণ করে।
একই দিন দুপুরে উপজেলার দৌলতপুর এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে আনুমানিক মধ্যবয়সী অজ্ঞাত এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নদীর পানিতে মরদেহটি ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে সেটি উদ্ধার করে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নারায়ণ সরকারের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর সন্দেহভাজন দুই আসামিকে গ্রেফতার করে ইতিপূর্বে ১ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনে তাঁদের আবারও আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এছাড়া ধলেশ্বরী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।



