ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান উল্লেখ করে পুলিশ সদস্য বা সরকারি গাড়ি আইন অমান্য করলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ; একই সাথে মে মাসে প্রায় ৩৮ হাজার মামলা ও পৌনে ৯ কোটি টাকা জরিমানা আদায়ের তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল সোয়া ৪টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তা—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলতি বছরের মে মাসে ডিএমপি কর্তৃক জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি গাড়ি ও কর্মকর্তাদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এবং যত্রতত্র নিষিদ্ধ ‘হুটার’ বা হর্ন বাজানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে যাতায়াত করেন। সেখানে অন্য কারও আইন ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। ইমার্জেন্সি বা জরুরি যানবাহন ছাড়া সাধারণ কিংবা অন্য কোনো সরকারি যানবাহনে হুটার বাজানো ট্রাফিক আইন ও বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ট্রাফিক পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সরকারি বা বেসরকারি—যিনিই আইন লঙ্ঘন করবেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সরকারি ও পুলিশের অনেক যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ছাড়া শুধু ইঞ্জিন নাম্বারে চলার কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কীভাবে মামলা দেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার স্পষ্ট করেন যে, আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এআই সিস্টেমে গাড়িগুলোর লেন পরিবর্তন, বাম লেন ব্লক করা বা সিগন্যাল অমান্য করার ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। এরপর পুলিশ শতভাগ নিশ্চিত হয়েই ডিজিটাল মামলা বা ই-প্রসিকিউশন দায়ের করে।
ডিএমপি কমিশনার মে মাসের ট্রাফিক বিভাগের একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, মে মাসে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৩৮,২৮৪ টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭২ টি মামলা হয়েছে এআই (AI) ভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। এসব মামলা থেকে মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া মে মাসে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্ত ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করে একজনকে কারাদণ্ডসহ মোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি একই মাসে ৫,২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করে ৫,৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২২ লাখ ৬৫ thousand ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এগুলো যেহেতু মোটরযান নয়, তাই প্রচলিত সড়ক আইনে এদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করার সুযোগ নেই। তবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে এবং রিকশাগুলো জব্দ করে ডাম্পিং করা হচ্ছে। প্রধান সড়কগুলোতে যাতে কোনোভাবেই ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ট্রাফিক পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।



