কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাসের কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপায় দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজারে একটি কালভার্ট নির্মাণ করার সময় আকস্মিক মাটিধসের ঘটনায় দুই নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরিয়ানগর এলাকায় এই হাড়হিম করা দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকেরা হলেন— মো. ইলিয়াছ ও রাকিব। তাঁরা দুজনই চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দরিয়ানগর এলাকায় অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়’-এর বিশেষায়িত আউটার ক্যাম্পাস ও গবেষণা কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। কালভার্টটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে ‘লাকি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুর রহমান মজুমদার ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক ওই কালভার্ট নির্মাণের কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে কালভার্টের ‘বেইজ’ (ভিত্তি) কাটার জন্য শ্রমিকেরা যখন মাটির গভীরে নামেন, ঠিক তখনই ওপর থেকে আচমকা মাটির একটি বিশাল অংশ ধসে তাঁদের ওপর পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে তিন শ্রমিক মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়েন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য শ্রমিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং দ্রুত মাটি সরিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইলিয়াছ ও রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য শ্রমিককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হতাহতরা একটি নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কালভার্ট নির্মাণের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। বেজমেন্ট কাটার সময় অসাবধানতাবশত বা হঠাৎ মাটিচাপায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা অবহেলার দাবি করা হলে পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



