সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের দীর্ঘ কারাবন্দিত্ব এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য স্টিভেন লরেন্স।
দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের কারাবন্দিত্ব এবং দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডাব্লিউ) পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য স্টিভেন লরেন্স ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও তাঁর জামিন না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার সুমনের আইনজীবীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তাঁরা জানান, অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টিভেন লরেন্স এই উদ্বেগের কথা জানান।
স্টিভেন লরেন্স তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়ার ডাব্বো এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় নাগরিকরা ব্যারিস্টার সুমনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন বাংলাদেশে দুর্নীতি ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। লরেন্স দাবি করেন, সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে একাধিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা এই আইনজীবীর প্রতিটি জামিন আবেদন বারবার নাকচ হওয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
লরেন্স আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার, হেফাজতে নির্যাতন এবং কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে বন্দিদের মৃত্যুর যেসব অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিনিয়ত উদ্বেগ বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার সুমনের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুমনের বিরুদ্ধে যেসব মামলা দায়ের হয়েছে, তা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বেশ উদ্বিগ্ন। মূলত প্রবাসীদের উদ্যোগেই বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছে। মামলার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমনের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। জেলা জজ আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করা হলে আদালত রুল জারি করেন, যা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
সুমনের আরেক আইনজীবী মোহাম্মদ খুররাম শাহ মুরাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনের পর দিন বিনা বিচারে রাজনীতিবিদদের কারাগারে আটকে রাখা দেশের জন্য শুভকর নয়। ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আমরা মনে করি, তাঁর এই বন্দিদশা সম্পূর্ণ বেআইনি।” তবে আইনজীবীদের এই সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে সরকার পক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি।



