কারামুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবনে তরিকতপন্থী অনুসারীদের নিয়ে ‘গাদিরে খুম’ স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও দোয়ার আয়োজন করেছেন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
কারামুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দীর্ঘ বন্দিজীবনের অবসান ঘটিয়ে কারাফটক থেকে সরাসরি নিজ বাসভবনে পৌঁছানোর পরদিনই তিনি এক বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িতে এসে পৌঁছান।
দীর্ঘদিন পর তাঁর ঘরে ফেরাকে কেন্দ্র করে যখন গভীর রাতেই আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছিল, ঠিক তখনই তাঁর বাসার ভেতরে অবস্থিত পারিবারিক খানকায় ‘গাদিরে খুম’ দিবস স্মরণে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অনুষ্ঠিত এই বিশেষ ধর্মীয় সমাবেশে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পারিবারিক তরিকতপন্থী অনুসারীরা অংশ নেন। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত ‘গাদিরে খুম’-এর ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণে সেখানে বিশেষ আলোচনা সভা, মিলাদ ও কাঙ্ক্ষিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তাঁর কারাজীবনের কিছু আধ্যাত্মিক অনুভূতির কথা শেয়ার করেন। তিনি জানান, কারাগারে বন্দি থাকাকালে তিনি স্রষ্টার দরবারে নিয়মিত একটি বিশেষ প্রার্থনা বা দোয়া করতেন—যেন এই পবিত্র গাদিরে খুম দিবসটি আসার আগেই তিনি কারামুক্ত হয়ে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা সেই মনের আকুতি ও দোয়া কবুল করেছেন বলেই তিনি এমন একটি বিশেষ ও বরকতময় দিনে পরিবারের সদস্য এবং নিজের অনুসারীদের সঙ্গে সশরীরে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যকার বন্দিজীবন তাঁর জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। সেখানে থাকার সময় তিনি এমন অনেক ধর্মীয় আমল ও ইবাদত করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন, যা বাইরের ব্যস্ত ও রাজনৈতিক জীবনে আগে নিয়মিত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই বন্দিজীবনের কষ্ট ও নির্জনতার অভিজ্ঞতা তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে আরও বেশি পরিপক্ব ও স্রষ্টার প্রতি মনোযোগী করে তুলেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ডা. আইভীর কারামুক্তির পর থেকেই দেওভোগের ‘চুনকা কুটির’ তথা তাঁর বাসভবনে শুভানুধ্যায়ীদের ঢল নেমেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ নাগরিকেরা সাবেক এই জনপ্রিয় মেয়রকে একনজর দেখতে এবং তাঁর খোঁজখবর নিতে আসছেন। তবে কারামুক্তির পর বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হলেও বর্তমান দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য বা বক্তব্য দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত ছিলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।



