বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের (যুবদল) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা মো. তারিকুল ইসলাম টিটু। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদল এবং নাটোর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই নেতা আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ একটি রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী।
নাটোরের বাগাতিপাড়ার বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম টিটু দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের শুরু ছাত্রদলের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ধাপে ধাপে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। টুকু-আলীম কমিটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, হেলাল-বাবু কমিটিতে সদস্য, জুয়েল-হাবিব কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং রাজীব-আকরাম কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
ছাত্ররাজনীতি শেষে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তারিকুল ইসলাম টিটু। বর্তমানে তিনি নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নব্বইয়ের দশক থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ১৯৯৮ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় চার মাস কারাভোগ করেন। ২০১০ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ২০১৫ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিযোগে আবারও গ্রেপ্তার হন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তারিকুল ইসলাম টিটু। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন।
তাঁর পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুল কুদ্দুস সরকার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। পরিবারের সদস্যদেরও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তাঁর বড় ভাই বর্তমানে বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে তারিকুল ইসলাম টিটুর অন্তর্ভুক্তি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।
যুবদলের নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর তারিকুল ইসলাম টিটুর সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে তরুণ নেতৃত্বকে সংগঠিত করা, তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুবসমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পথ পেরিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাওয়াকে তাঁর সমর্থকেরা নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় নাটোরের বাগাতিপাড়ায় টিটুর কর্মী-সমর্থকেরা ব্যাপক মিষ্টি বিতরণ করেছেন বলে জানা গেছে।



