পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে কথিত পুশইন চেষ্টার ঘটনায় ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। বিজিবির বাধার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি, আবার বিএসএফও তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি। ফলে সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে তাদের অনুপ্রবেশ ব্যর্থ হয়।
ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত এসব নারী, শিশু ও পুরুষ খোলা আকাশের নিচে মানবিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার রাতভর ভারী বৃষ্টির মধ্যে তারা আশ্রয়হীন অবস্থায় ছিলেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এমনকি বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে পান করার ঘটনাও জানা গেছে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বড়বাড়ি সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠক হলেও বিএসএফ এখনো ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেয়নি। বর্তমানে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।



