২০২৪ সালের ৫ জুন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ই পরবর্তী মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকারের নাটকীয় পতন ও দেশ ছাড়ার মূল কারণ বা ‘পতন ঘণ্টা’ হিসেবে রূপ নিয়েছিল।
শুক্রবার (৫ জুন) সরকারি চাকরিতে কোটা বহালের পক্ষে হাইকোর্টের সেই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ জুন যখন হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছিলেন, তখন বিষয়টি সংবাদমাধ্যম বা সুপ্রিম কোর্টের সাংবাদিকদের কাছে খুব একটা বড় ঘটনা মনে হয়নি এবং কেউ কল্পনাও করেননি যে এই একটি রায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দেবে। কিন্তু রায়ের পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন নতুন গতি পায়। শুরুতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার এই আন্দোলনকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি, কারণ তৎকালীন সময়ে বাজারে তীব্র দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং আলোচিত ‘ছাগলকাণ্ডে’ এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছিল। সরকারের ধারণা ছিল কোটা আন্দোলনের কারণে এসব নেতিবাচক ইস্যু আড়ালে চলে যাবে, তাই শুরুতে তারা আন্দোলন ঠেকাতে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় পরবর্তীতে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে, তাদের সরকারের কেউ ভাবতেই পারেনি এই সহিংস আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার উৎখাতের দিকে গড়াবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আন্দোলন দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণে রূপ নেয়। আন্দোলনের ব্যাপ্তি দেখে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বর্বর হামলা চালায়। এর পরদিন, অর্থাৎ ১৬ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা এই হামলার প্রতিবাদে রাজপথে নামলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, দেশজুড়ে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে এই কোটা আন্দোলন এক দফার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।



