ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে দেশটির নিজস্ব প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দুই দেশের কার্যকর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনেই এই প্রত্যাবাসন বা বিতাড়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ–সংক্রান্ত এক স্পর্শকাতর প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই মন্তব্য করেন। ব্রিফিং চলাকালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একজন সংবাদকর্মী অভিযোগ তোলেন যে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বা ‘পুশ ইন’ করছে বলে ঢাকা দাবি করছে—এ বিষয়ে ভারতের প্রকৃত অবস্থান কী? এই প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল সাফ জানিয়ে দেন, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় আইনি ব্যবস্থা বা মেকানিজম কার্যকর রয়েছে। এই নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ তথ্য প্রথমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়, যাতে বাংলাদেশ সরকার তাদের সঠিক নাগরিকত্ব যাচাই–বাছাই করতে পারে। বাংলাদেশ পক্ষের পক্ষ থেকে এই যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল নিয়ম মেনে প্রত্যাবাসন বা বিতাড়নের মূল কার্যক্রম শুরু করা হয়। রণধীর জয়সোয়াল আরও উল্লেখ করেন যে, অবৈধ নাগরিকদের তথ্য যাচাইয়ের এমন বহু অনুরোধ বা আবেদন এখনো বাংলাদেশি পক্ষের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় বা ঝুলে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঝুলে থাকা অনুরোধ বা বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান করা হলে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর এই জটিল প্রক্রিয়াটি দুই দেশের জন্যই আরও সহজ, গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



