বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান শনিবার বেলা ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া অফিস।
গভর্নর বলেন, ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কৃষি শিল্পের আধুনিকায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, নগদ অর্থ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে “ক্যাশলেস বাংলাদেশ” বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে “এক দেশ, এক কিউআর” উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত “বাংলা কিউআর” পেমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড আগামী ৫ জুলাই থেকে দেশের সব ব্যাংক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে একযোগে কার্যকর হবে।
সভায় গভর্নর আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করছে। নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অংশীজনদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তা ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতিতে প্রতিফলিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ সালাহ্উদ্দিন নাসের।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, থিংক ট্যাংক, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।



