নোয়াখালীতে পৃথক দুটি স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে ১৫ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সুধারাম মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মুকিব হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ও রাতে পুলিশ নোয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিগত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে স্থানীয় বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা শেখ হাসিনার পক্ষে এবং মব, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর রাতে পুলিশ উপজেলার এওজবালিয়া ও কালাদরাপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতা ও মিছিলের অন্যতম অর্থদাতা নজরুল ইসলামসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, শুক্রবার বিকেলে শহরের পৌর বাজার এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের পক্ষে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহান, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিল এবং পৌরসভা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আনাসসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করে ১৮ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ জানায়, এই ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এদিকে, দুপুরের পর থেকে বাঁধেরহাট বাজারে কয়েকশ নেতাকর্মী জড়ো হলেও পুলিশ প্রথমে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা তৈরি হয়। তবে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম সমালোচনার জবাবে বলেন, মিছিলের খবর পেয়ে আগেই সেখানে ৬ জন পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। জুমার নামাজের পর মিছিল না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা যখন থানার দিকে রওনা হন, ঠিক তখনই বিকেল ৪টার দিকে আকস্মিকভাবে এই মিছিলটি বের করা হয়। বাঁধেরহাট ও পৌর বাজারের এই দুটি ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।



