কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে গত চার দিনে অন্তত ২০০ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ফলে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ভাঙনকবলিত উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোমেনা বেগম বলেন, “ঘরটা চোখের সামনে নদীতে চলে গেল। এখন কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব, কিছুই জানি না।” তার মতো অনেক পরিবারই এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ধলডাঙ্গা ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামে নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ধলডাঙ্গায় প্রায় ৮০টি এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় ৩৫টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ধলডাঙ্গায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক জানান, কালজানি নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোববার থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপে ২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জিও ব্যাগও দেওয়া হবে।
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নদীভাঙন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত সহায়তা পায় না।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে কালজানি নদী বাম তীর থেকে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এ সময়ে প্রায় এক হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও এলাকার বউবাজারও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।



