বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ক্যাম্পাসে একই দলের মানুষ দুই ভিন্ন পরিচয়ে হাজির হয়ে চমকে দিয়েছেন সবাইকে।
গত বুধবার ১৪ দলের নেতা পরিচয় দিয়ে ৭-৮ জন ব্যক্তি বিদায়ী রেজিস্ট্রার ড. মো. শফিকুল আলমের বিদায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা রেজিস্ট্রারের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন এবং পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইদ ফেরদৌসের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
কিন্তু পাঁচ দিন না যেতেই একই ব্যক্তিদের দেখা গেল নতুন পরিচয়ে। এবার তারা “দুর্নীতি প্রতিরোধ পরিষদ” ব্যানার ব্যবহার করে বাউবির প্রধান ফটকে মানববন্ধন করেন। উপাচার্য ও ট্রেজারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বদলি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন তারা।
একই দলের মানুষ কখনো রাজনৈতিক নেতা, কখনো দুর্নীতি প্রতিরোধকর্মী—এতে বিভ্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সম্প্রতি কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই নানা মহল থেকে তদবীর শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এসব নাটকীয় কর্মসূচি চলছে বলে তাদের ধারণা।
গাজীপুরের স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কাউকেই তারা চেনেন না। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এসব মুখ কখনো দেখা যায়নি। একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, দুই দিনে দুই পরিচয় দেওয়ার মধ্যে রহস্য রয়েছে।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য ড. সাইদ ফেরদৌস বলেন, “৫-৬ দিন আগে যারা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল, আজকের মানববন্ধনে তারাই ছিল কি না আমি জানি না।”
অন্যদিকে দুর্নীতি প্রতিরোধ পরিষদের সভাপতি দরবেশ মো. মোল্লা খোসনবিশ বলেন, “আমরা আগেও এসেছি, আজও এসেছি, ভবিষ্যতেও আসব। আমাদের পরিচয় যাই হোক, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা বাউবিকে ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিমুক্ত করবই।”



