জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, এই দলটিকে ধীরে ধীরে জামায়াতে ইসলামীর আরেকটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
রোববার (৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বিএনপি নেতা রাশেদ খান এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এনসিপিকে জামায়াতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে এবং দলের প্রধান দুই মুখ নাহিদ ও আসিফ নিজেরাও হয়তো বুঝতে পারছেন না যে কীভাবে জামায়াত–শিবির এই দলটিকে পুরোপুরি দখল করে নিচ্ছে। রাশেদ খানের দাবি, এনসিপির অন্যতম শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ অতীতে এই ধরনের অনুপ্রবেশের বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার থাকলেও, বর্তমানে তিনি নিজেই জামায়াত–শিবিরের কর্মীদের দলে ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াতের বি–টিম বা প্রতিষ্ঠান না হয়ে এনসিপি একটি স্বতন্ত্র নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নতুনভাবে দেশের রাজনীতিতে দাঁড়াতে পারতো, কারণ বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের একটি বাস্তবমুখী প্রয়োজনীয়তা ও ভালো সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী নিজে একটি বড় দল হিসেবে বিদ্যমান থাকতে দেশে আরেকটি জামায়াতের ‘প্রোম্যাক্স’ বা হুবহু অনুকরণকারী দলের কোনো প্রয়োজন ছিলো না।
বিএনপির এই নেতা আরও দাবি করেন, এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু থেকেই জামায়াত–শিবিরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শতকরা ৮০ ভাগ জামায়াত–শিবিরের কর্মী দিয়েই এনসিপির রাজনৈতিক বসন্ত বা যাত্রা শুরু হয়েছে এবং হয়তো ভবিষ্যতে এই দলটির অস্তিত্ব জামায়াতের মধ্যে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েই শতভাগ বসন্ত উদযাপিত হবে। রাশেদ খান উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণের একটি দারুণ সুযোগ এনসিপির সামনে তৈরি হয়েছিল; তবে নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতায় সেই সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও ভুল নীতির কারণে ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এনসিপির মাধ্যমে এই আওয়ামী শূন্যতা পূরণের এক দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, যা তাদের অদূরদর্শিতার কারণে হাতছাড়া হলো এবং নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করলেন নাহিদ ও আসিফ।



