নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ এবং এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার মামলার এজাহারভুক্ত ২৪ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পর সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর শুক্রবার রাতেই এজাহারভুক্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরদিন শনিবার রাতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২৩ জনকে আটক করা হয়। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ছাত্রলীগের ওই বিক্ষোভ কর্মসূচির জেরে শনিবার বিকেলে কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হওয়ার পর এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় এবং বিএনপির এক কর্মীর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।



