আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ২২তম সাক্ষী হিসেবে চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানি মো. সালাউদ্দিন লিটন।
মঙ্গলবার ৯ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে লিটন জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফুটওভার ব্রিজের পাশে তার দোকানে চা খাওয়ার সময় বাইরে গোলাগুলি শুরু হলে পুলিশের নির্দেশে তিনি দোকান বন্ধ করে ভেতরেই অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ সদস্যরা শাটার না খুললে গুলি করার ভয় দেখালে তিনি তাইমদের আত্মসমর্পণ করতে বলে শাটার খোলেন। শাটার খুলতেই পুলিশ ভেতরে ঢুকে তাকে চড়-থাপ্পড় মারে এবং দোকানে লুটপাট চালিয়ে ক্যাশ বক্সের ২৫ হাজার টাকাসহ চিপস-সিগারেট নিয়ে যায়। এরপর তাইম, শাহরিয়ার ও রাহাতকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে রাইফেলের বাঁট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জাকির নামের একজন পুলিশ সদস্য তাইমকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ তাইমকে হাসপাতালে নিতে চাইলে পুলিশ তাদেরও গুলি করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাইমের মৃত্যু হয়।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করা হয়, যেখানে দোকান লুটপাট এবং হেলমেট পরা পুলিশ সদস্য জাকির কর্তৃক তাইমকে গুলি করার ভয়ংকর দৃশ্য দেখা যায়। মামলায় ১১ জন আসামির মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে হাজির ছিলেন। সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ বাকি ৯ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।



