যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১১ সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন মূল্য। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৩ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনার খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে বাজারে ধারণা জোরদার হয়েছে।
বৈশ্বিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত প্রত্যাশা, বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বর্তমানে স্বর্ণবাজারের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে ইরান। এতে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ৭০ শতাংশের বেশি বিবেচনা করছেন বিনিয়োগকারীরা। সাধারণত স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই ধাতুর চাহিদা কমিয়ে দেয়।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ১০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২১২ দশমিক ৩১ ডলারে লেনদেন হয়েছে।



