প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পাঠ্যবই চালুর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে রূপান্তর করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষায় এই বিশেষায়িত বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক দক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে, যা শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে তৈরি করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পাঠ্যক্রমের সমন্বয় সাধনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যৌথ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করেন যে, সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে কেবল সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কারিকুলাম উন্নয়ন ও দক্ষ শিক্ষক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির জন্য চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলার ওপর চারটি অধ্যায় সংবলিত শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবই চালু করা হবে এবং ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামের আওতায় এই বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হবে। উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



