হবিগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস ও রাজনৈতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মাহাদী হাসান জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতে অতর্কিত হামলার শিকার ও বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে সরকারি অফিসের ভেতরে প্রকাশ্যে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর গুরুতর আহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাহাদী হাসানের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর মাধ্যমে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হতে দেখা যায়। এর আগে গত বুধবার দুপুরেও শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে ফেসবুকে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ধাওয়া করলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন, যা জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সহজভাবে নেননি। অবশ্য প্রথম দফার ধাওয়ার ঘটনার পর জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং মাহাদী নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যার কোনো সত্যতা পুলিশও পায়নি বলে জানিয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে ‘বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া এবং এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়ে একটি ভিডিও ছড়ানোর পর থেকে মাহাদী হাসান ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সর্বশেষ ঘটনার দিন তিনি বিআরটিএর কার্যালয় থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিয়ে ইজি বাইকে ফেরার পথে আবারও ছাত্রদলের তোপের মুখে পড়েন এবং পরবর্তীতে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে এই মারধরের শিকার হন।



