জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য একটি বড় ধরনের জনমুখী ঘোষণা দিয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে দেশের বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই চাপ সামাল দিতে এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কর হ্রাসের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী জানান যে, দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের আওতায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য মিলিয়ে মোট ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা কমানো হচ্ছে। বর্তমানে এসব পণ্যের ওপর করের ধরন ও ধাপ অনুযায়ী ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ উৎসে কর বিদ্যমান রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগের সব করহার কমিয়ে এখন মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। কর কমানো এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পিয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বিভিন্ন ধরনের বীজ।
সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, কর হ্রাসের এই বিশেষ পদক্ষেপটি দেশের বাজারে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে দেওয়ায় পণ্যগুলোর উৎপাদন, আমদানি ও বিপণন পর্যায়ের সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আর ব্যবসায়িক পর্যায়ে এই ব্যয় কমে যাওয়ার সুফল শেষ পর্যন্ত সরাসরি সাধারণ ভোক্তা তথা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এর ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমবে এবং জনজীবনে দ্রুত স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছে সরকার।



