দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষাঋণ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক ঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য করতে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই খাতের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে বিশেষ শিক্ষাঋণ ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা চালুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই জনমুখী ও শিক্ষাবান্ধব ঘোষণা প্রদান করেন। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, দেশের কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা যেন তাদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথে কোনোভাবেই বড় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই এই ঋণ সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্যও সরকার বিশেষ ব্যাংক ঋণ কর্মসূচি চালুর জোরালো পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এই বিশেষ আর্থিক সহায়তার ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তানরাও অনায়াসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো ব্যয়বহুল শিক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে এবং দেশের বাইরে গিয়েও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ পাবে।
চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আরও কিছু বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের সকল সরকারি মেডিকেল কলেজকে সম্পূর্ণ আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। আর এই রূপান্তরের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সংস্কার ও ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় বিশেষভাবে দেশের পুরাতন মেডিকেল কলেজসমূহের একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহ পুরোপুরি আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে মেডিকেল শিক্ষার্থী ও মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।



