ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক নারী হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা শহরের কদমতলী মোড় এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সেখানে অবস্থানকালে দুর্ভাগ্যবশত তাঁর একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহপুর গ্রামের ওই হজযাত্রী তাঁর হারিয়ে যাওয়া লাগেজের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে এবং অভিযোগ জানাতে আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত ‘কসবা হজ কাফেলা’ নামক ট্রাভেল এজেন্সির কার্যালয়ে যান।
সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ওই হজযাত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আইনানুযায়ী হারিয়ে যাওয়া লাগেজের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর নিজের। এই ধরনের ঘটনায় হজ কাফেলা পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনিভাবে কিছুই করার নেই। এই লাগেজ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকেই উভয় গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও উগ্র ভাব বিরাজ করছিল।
বৃহস্পতিবারের সেই পূর্ববিরোধ ও উত্তেজনার জের ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের কয়েক শ’ মানুষ লাঠি, ফিকলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কদমতলী মোড় এলাকায় এক অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই দুই পক্ষের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে পুরো উপজেলা শহর ও আশপাশ এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে স্থানীয় আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘটনার খবর পেয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনিন সুলতানার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কসবা থানার ওসি নাজনিন সুলতানা সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাগেজ হারানো ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এই মারামারি হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



