শরীয়তপুর জেলা শহরের পৌরসভার উত্তর পালং এলাকার শাবনূর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই বর্বরোচিত ও নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সেই নির্যাতনের একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মনি আক্তারের স্বামী বর্তমানে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার একটি আর্থিক লেনদেন ও বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আজ শনিবার সকালে সেই পূর্ব বিরোধটি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করার কথা বলে মনি আক্তারকে একটি বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী মনি আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা এবং তাদের পরিবারের আরও এক স্বজন মিলে আচমকা তার ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। এরপর তারা মনি আক্তারকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে জনসম্মুখে তার মুখে কালো আলকাতরা মাখিয়ে দেয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে চরমভাবে অপদস্থ করে রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয় সচেতন মানুষের মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্যাতিতা মনি আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের আনা মাদক ব্যবসার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকতেন, তবে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু তাকে যেভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় জনসম্মুখে নির্যাতন ও সামাজিকভাবে অপমান করা হয়েছে, তিনি প্রশাসনের কাছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান। অন্যদিকে অভিযুক্ত দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যরা এই অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, মনি আক্তারের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, কেবল বিরোধ মীমাংসার জন্যই তাকে ডাকা হয়েছিল, পরে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে এবং ওই নারী তাদের পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। এই বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



