সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন তথা নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে এবং এর গেজেট শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় রূপরেখা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়া এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের পে স্কেল একবারে পুরোটা বাস্তবায়ন না করে মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ১ জুলাই (২০২৬) থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এবারের নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন অর্থাৎ বেসিকের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের কথা বিবেচনা করে তাদের বেসিকের শতভাগ অর্থাৎ দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে বলেও জোরালো আলোচনা চলছে। বাজেট বক্তব্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই এই বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিন স্তরে পেনশন বৃদ্ধির বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যাদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ ২০ হাজার টাকার কম, তাদের পেনশন শতভাগ বৃদ্ধি অর্থাৎ বর্তমানের তুলনায় একদম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। এছাড়া মাসিক ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশনের পরিমাণ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।
এদিকে নতুন বেতন কাঠামোতে কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনই বাড়ছে না, বরং এর পাশাপাশি শিক্ষা ভাতা, টিফিন ভাতা ও বৈশাখী ভাতাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি বছর দেওয়া বৈশাখী ভাতা বর্তমানের মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা বর্তমানের মাত্র ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে নতুন রূপরেখায়।



