বিগত সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি তার বিরুদ্ধে হওয়া ৩৮টি মামলার মধ্যে যে দুটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন, তা স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।আজ রবিবার (১৪ জুন) দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের একক আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা পৃথক এই স্থগিতাদেশ আবেদন দুটি শুনানির জন্য দৈনিক কার্য তালিকায় বা কজ লিস্টে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ ডা. দীপু মনিকে ওই দুটি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিনের বিরোধিতা করে তা স্থগিতের জন্য আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছে। ডা. দীপু মনির প্রধান নিয়োজিত আইনজীবী রমজান আলী শিকদার গণমাধ্যমকে সার্বিক আইনি পরিস্থিতি নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সর্বমোট ৩৮টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। দায়ের হওয়া এই বিপুলসংখ্যক মামলার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই রয়েছে সুনির্দিষ্ট দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে কেবল দুটিতে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করার পাশাপাশি তাকে নিয়মিত জামিন দিয়েছেন, যার ওপর এখন রাষ্ট্রপক্ষ স্থগিতাদেশ চাচ্ছে। এছাড়া আরও ১৩টি পৃথক মামলায় জামিন দেওয়ার প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগ ইতিপূর্বে রুল জারি করেছেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র–জনতার ওপর বর্বরোচিত হত্যা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি এবং বিভিন্ন সহিংসতা সৃষ্টি ও নির্দেশনাসহ প্রায় ৩৮টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষনেতা তথা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসন আমলে তিনি পর্যায়ক্রমে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সর্বশেষ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার তীব্র ও ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের চূড়ান্ত পতন ঘটে। সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বারিধারার একটি বাসা থেকে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ দল ডা. দীপু মনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি আদালতের নির্দেশে টানা কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করছেন এবং তার আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে।



