দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে আটকে রাখার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (১৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দিনশেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন–নিউজ ১৮’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচ লিস্ট) নাম থাকায় দিল্লির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখে। রুটিন যাচাই–বাছাইয়ের সময় তার নামটি কর্মকর্তাদের নজরে এলে অতিরিক্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কমিটির ২৮তম বৈঠকে অংশ নিতে তিনি ভারতে যাচ্ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১৫ ও ১৬ জুন এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ডা. জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্ট নয়, বরং সার্ক স্টিকারযুক্ত সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে এই সফরে গিয়েছিলেন। তবে তার এই সফর সম্পর্কে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিল। এমনকি তাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। নয়াদিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তবে বিমানবন্দরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর ডা. জাহেদ উর রহমান নিজেই ক্ষুব্ধ হয়ে সফর বাতিল করেন এবং কলম্বো হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।



