জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুজিববাদের পথ ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নজরানা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। ওই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কড়া বক্তব্য দেন। তিনি বলেন যে গত ৫৩ বছর ধরে যে মুজিববাদী সরকার ভারতের মাধ্যমে দেশের মানুষের ওপর চেপে বসেছিল, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের রক্তের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ সেই মুজিববাদী বয়ান থেকে বের হতে পেরেছে। এর ফলে দেশের জনগণ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, ইসলাম ও নিজস্ব সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তবে যার বাবা জিয়াউর রহমান এক সময় ‘আমরা বিদ্রোহ করলাম’ বা ‘উই রিভল্ট’ বলেছিলেন, তারই সন্তান তারেক রহমান এখন আবার সেই পুরোনো মুজিববাদের পথ ধরে মোদির কাছে নজরানা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি ও তারেক রহমানকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে তাদের যদি আবারও মুজিববাদে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে হয়, তবে যেন তারা মনে রাখেন যে তারা কখনোই আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় মুজিববাদী হতে পারবেন না। তিনি আরও সতর্ক করেন যে মুজিববাদের পথটি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের পথ নয় এবং এই আত্মঘাতী পথের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। সমাবেশে তিনি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে তারা যদি সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারেন এবং দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় দেশের জনগণ তাদের টেনে–হিঁচড়ে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করবে।
তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে আরও বলেন যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সভাপতি হলেও দেশের সীমান্তের হত্যাকাণ্ড ও অবৈধ পুশইন তার চোখে পড়ে না। ভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রণে থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দেওয়ার যে পথ তারেক রহমান বেছে নিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সেই একই পথে হাঁটছেন। একই সাথে তিনি সমাবেশে উপস্থিত খলিল নামের এক রাজনৈতিক নেতাকে ইঙ্গিত করে বলেন যে তিনিও যদি মুজিববাদের পথ ধরে হাঁটার চেষ্টা করেন, তবে তাকেও শায়েস্তা করার জন্য দেশের মানুষ প্রস্তুত আছে এবং তখন তার পূর্বের কোনো পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।



