কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন বাসিন্দা আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে মেঘনা উপজেলার চর বিনোদনপুর গ্রামের পূর্ব পাশে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৯০ সালে জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ২৩টি দলিলের মাধ্যমে ১৪ দশমিক ৭৫ একর জমি লিজ দেয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দাদের ১০ দশমিক ১৪ একর জমি লিজ দেওয়া হয়। এর পর থেকে নতুন বাটেরা এলাকার লোকজনই মূলত ওই জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি আলীপুর গ্রামের লোকজন ওই জমির দখল নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষই দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, হকিস্টিক, রামদা এবং ইট-পাটকেল ব্যবহার করে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এতে অনেকের হাত, পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এই সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক, বাছির, জাহাঙ্গীর আলম, রবি মোল্লা, সাগর, সালাউদ্দিন ও শাহজাহানসহ প্রায় ৩০ জনের নাম জানা গেছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ এই জমিটি বাটেরা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। সিএস ও এসএ রেকর্ডে আলীপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার নাম উল্লেখ থাকলেও বিএস রেকর্ডে জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। এই রেকর্ডের জটিলতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি, এই সংঘর্ষে মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান, হাবিবুল্লাহ মেম্বার, শাহজাহান মেম্বার, রবিউল্লাহ ও জহির। অন্যদিকে তিতাস উপজেলার বাসিন্দাদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লিটন, শাহ আলম মেম্বার, ছাইদুল মেম্বার ও আবদুর রব। মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নতুন কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।



