কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা এলাকা থেকে ওই জেলেদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক হওয়া জেলেরা হলেন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফায়সাল, সৈয়দুর রহমান, সৈয়দ আলম, মোহাম্মদ হেলাল, মোহাম্মদ জলিল, আজম উল্লাহ এবং মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ।
স্থানীয় জেলে সুলতান আহমদ জানান, সোমবার সকালে জেলেরা যখন শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরছিলেন, ঠিক তখন মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকা থেকে এসে আরাকান আর্মির সদস্যরা দুটি ট্রলারসহ এই ৭ জন জেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটক করে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, জেলেরা প্রতিদিন নাফ নদীর ওই এলাকাতেই মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে নদীতে নির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত রেখা চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় অনেক সময় জেলেরা অসাবধানতাবশত বা ভুলবশত মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি চলে যান। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েই আরাকান আর্মির সদস্যরা বিভিন্ন সময় এসে বাংলাদেশি জেলেদের ধাওয়া করে আটক করে নিয়ে যায়।
আরেক স্থানীয় জেলে আলী আহমদ আক্ষেপ করে জানান, নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরা এখন সাধারণ জেলেদের জন্য অনেক বেশি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মাছ ধরতে যাওয়ার সময় সব সময় আরাকান আর্মির এক ধরনের আতঙ্ক তাদের মনে কাজ করে। সুযোগ পেলেই আরাকান আর্মির সদস্যরা দ্রুতগতির স্পিডবোটে করে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। এই ধারাবাহিক অপহরণ ও ধাওয়ার কারণে স্থানীয় জেলেরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শাহপরীর দ্বীপ এলাকার ৭ জন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এই বন্দি জেলেদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



