যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের অধিকার আদায় করে নেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে বড় ছাড় আদায় করে নিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি সমঝোতা চূড়ান্ত করার ঠিক শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত যুক্ত করে নিয়েছে ইরান। এই নতুন শর্তের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজের ওপর ফি বা টোল আরোপের অধিকার নিশ্চিত করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ফার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) শেষ মুহূর্তে করা সংশোধনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে যৌথভাবে ইরান ও ওমানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ থাকবে, তবে এই নতুন শর্তের পর প্রণালিটি আসলেই টোলমুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী ৬০ দিন তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। তবে এই নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা, নৌ-চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বীমা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার খরচ হিসেবে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। আলোচনার একেবারে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা স্মারকের ভাষা সংশোধন করে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান ও ওমানের যৌথ সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাঠামোগত চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার ঠিক আগে তেহরান সমুদ্রপথ-সংক্রান্ত সেবা বাবদ ফি আদায়ের এই ধারাটি যুক্ত করতে সক্ষম হয়। ফার্সের ভাষ্যমতে, চুক্তিতে ‘মেরিটাইম সার্ভিসেস’ বা সমুদ্রপথ-সংক্রান্ত সেবা শব্দটি ব্যবহারের অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে নতি স্বীকার করে তাদের ফি প্রদানের বিষয়টি মেনে নিয়েছে।
এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্ত করার আগে দুই দেশের প্রতিনিধি পক্ষ রাতভর দীর্ঘ ও জটিল আলোচনায় অংশ নেন। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই শান্তি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি এলাকায় পেতে রাখা ইরানি মাইন অপসারণের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে আগামী শুক্রবার থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং তখন থেকেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



