লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের পর একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী ও মাটিচাপা অবস্থায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর (৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে জড়িত সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনতা এক বাবা ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ৭ বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলিনী বর্মণের মেয়ে এবং সে স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রতিদিনের মতো গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নন্দিনী বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার পরও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বীগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সারা রাত ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান করেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ আলীর একটি ভুট্টাখেতে কিছু ভাঙা গাছ দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। এরপর তারা খেতের ভেতরে একটি গর্ত দেখতে পান এবং সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া শিশু নন্দিনীর মরদেহটি খুঁজে পান। খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা একই এলাকার ৫৫ বছর বয়সী রণজিৎ চন্দ্র বর্মণ ও তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার ও বিজিবির অধিনায়ক উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটির বাবা নলিনী বর্মণ বলেন, আমি একজন সাধারণ কৃষক এবং আমার সঙ্গে কারও কোনো পূর্ব বিরোধ নেই। আমার ফুটফুটে মেয়েটিকে যারা এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। নিহত শিশুর মা সাবিত্রী রানীও বুক ফাটা আর্তনাদ করে বলেন, প্রতিদিনের মতো সেদিনও নন্দিনী বিকেলে খেলতে বের হয়েছিল। কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে এমন সর্বনাশ করল আমরা জানি না। আমি আমার একমাত্র মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
এই বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যার আগে কোনো ধরনের নির্যাতন বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।



