বিভিন্ন আইনি ও মামলা জটিলতার কারণে দেশের হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।আজ বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালীর ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা খাতের এই স্থবিরতার তথ্য তুলে ধরেন। সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক সংসদে এই শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলে মন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৩২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষক নিয়োগের মূল প্রক্রিয়া ছাড়াও আরও ২ হাজার ৬০০ জন এবং ১৭ হাজার জন শিক্ষক নিয়োগের পৃথক কার্যক্রমও সুনির্দিষ্ট মামলার কারণে মাঝপথে ঝুলে রয়েছে। আইনি জট নিরসনে নিজের ব্যক্তিগত ও মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিজে নিয়মিত আদালতপাড়ায় গিয়ে এসকল মামলার জটিলতা দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত এই মামলাগুলো উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় বা কজলিস্টে আসছে না। এর ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তীব্র শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নতুন নিয়োগ কার্যক্রম কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনের অন্যান্য স্তরের স্থবিরতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী হুবহু বলেন, ‘শুধু শিক্ষক নিয়োগই নয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগও মামলার কারণে আটকে আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দফতরি-কাম-নাইটগার্ড নিয়োগ কার্যক্রমও একই কারণে স্থগিত রয়েছে। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হচ্ছে।’ শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার বেদনাদায়ক চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বর্তমানে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন; যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দেশে ইতোমধ্যে আরও প্রায় ৩৩ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। কিন্তু পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগেই অবসরে চলে যাচ্ছেন।’
তিনি দেশের সামগ্রিক শিক্ষক সমাজের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সারা বাংলাদেশে এমন বহু যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন, যারা প্রধান শিক্ষক হওয়ার সকল যোগ্যতা অর্জন করেও শুধু মামলার জটিলতার কারণে যথাসময়ে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ফলে এই বিষয়গুলো কোনোভাবেই সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে সাধারণ শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের স্বস্তি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সভায় জানান, শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বর্তমানে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সম্পূর্ণভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে, যার ফলে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকেরা এখন নিজেদের এলাকা থেকেই বদলি সংক্রান্ত কাজগুলো সহজে সম্পন্ন করতে পারছেন।



