পরীক্ষামূলক সংস্করণ

যমজ ভাইয়ের সাথে যমজ বোনের বিয়ে! এলাকায় এলাহী কাণ্ড

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হওয়া দুবাই প্রবাসী যমজ দুই ভাইয়ের সাথে একই এলাকার যমজ দুই বোনের এক নজরকাড়া ও ব্যতিক্রমী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেখতে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

১৭ই জুন, ২০২৬ বুধবার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামে রূপকথা বা সিনেমার মতো এই বিরল ও নজরকাড়া বিয়ের ঘটনাটি ঘটেছে। কষ্টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের যমজ দুই মেয়ের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের মো. নুরুল আলমের যমজ দুই ছেলের এই আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়। দুই জোড়া যমজের এই ব্যতিক্রমী বিয়ের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় এবং নবদম্পতিদের এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ বিয়ে বাড়িতে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বরেরা হলেন মো. নুরুল আলমের যমজ দুই ছেলে মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মো. আব্দুল জব্বার, যারা দুজনেই লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে দুবাই প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে কনেরা হলেন শফিকুল ইসলামের যমজ দুই মেয়ে সুমাইয়া আক্তার পাতা এবং সোনিয়া আক্তার লতা, যারা দুজনেই বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বিয়েতে মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সুমাইয়া আক্তার পাতা এবং মো. আব্দুল জব্বারের সঙ্গে সোনিয়া আক্তার লতার তিন লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকার দেনমোহর ধার্য করে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সচরাচর এই ধরনের অদ্ভুত ও সুন্দর বিয়ে মিলতে দেখা যায় না। এই বিরল ঘটনাটি নিজের চোখে দেখার জন্য বহু মানুষ বিয়ে বাড়িতে ছুটে এসেছেন, যাদের মধ্যে অনেকে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন এবং অনেকেই কৌতূহলবশত কোনো দাওয়াত ছাড়াই নবদম্পতিদের দেখতে এসেছেন। পুরো গ্রামে একটি দারুণ উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং সবাই নতুন দুই দম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য মন থেকে দোয়া করেছেন।

নিজেদের বিয়ের বিষয়ে যমজ দুই ভাই জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা সব কাজ একসঙ্গে করে বড় হয়েছেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের সুপ্ত ইচ্ছে ছিল যে তারা যমজ দুই বোনকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন। নিজেদের এই ইচ্ছের কথা মাথায় রেখে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও মেসেঞ্জারে তথ্য আদান-প্রদান করতে গিয়ে একপর্যায়ে এই যমজ দুই বোনের সন্ধান পান। পরবর্তীতে কনেপক্ষ বিয়েতে সম্মতি জানালে তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। যমজ দুই বোনকে বিয়ে করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।

পারিবারিক যোগাযোগ ও সম্বন্ধের বিষয়ে যমজ মেয়েদের চাচা রফিকুল ইসলাম মনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি এলাকার এক শিক্ষকের বিশেষ সহযোগিতায় তারা তাদের যমজ ভাতিজিদের জন্য এই পারফেক্ট যমজ পাত্রদের সন্ধান পেয়েছিলেন। ছেলেরা দুজনেই সুপ্রতিষ্ঠিত এবং প্রবাসে চাকরি করছেন, অন্যদিকে ভাতিজিরাও পড়াশোনা করছে। সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতেই তাদের এই চমৎকার জুটি মিলিয়ে দিয়েছেন বলে তারা পুরো পরিবার অত্যন্ত খুশি। একই অনুভূতি প্রকাশ করে বরের পিতা মো. নুরুল আলম জানান, যমজ ছেলেদের জন্য এমন যমজ দুই পুত্রবধূ ঘরে তুলতে পেরে পিতা হিসেবে তিনি পরম আনন্দিত এবং তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

প্রধান খবর

কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে র‍্যাব ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

মুনতাসীর মামুন : টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে টাউনহল সভায় সিদ্ধান্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে

আসছে...