কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রতারণা করে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মহির উদ্দীন নামে এক ছেলের বিরুদ্ধে।
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের তালদশী গ্রামে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বাবার নাম আব্দুল জব্বার, যার বর্তমান বয়স ৯০ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থতায় ভুগছেন। এই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে প্রায় এক বছর আগে অভিযুক্ত ছেলে মো. মহির উদ্দীন তার বাবাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। তবে তিনি বাবাকে হাসপাতালে না নিয়ে কৌশলে পাকুন্দিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে তালদশি মৌজার ৫৫৫ ও ৫৫৬ নম্বর দাগের সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। জমি হস্তান্তরের এই বিষয়টি পরবর্তী সময়ে জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে জমি ফেরত চাওয়া হয়। এর জের ধরে মহির উদ্দীন তার বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন। এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) সকালে ভুক্তভোগী বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধের বড় ছেলে মো. গিয়াস উদ্দীন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি দখলের বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোর পর এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সালিশের মাধ্যমে কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যায়নি। উল্টো জমি ফেরত চাওয়ায় এবং সালিশ-দরবার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মহির উদ্দীন তাঁর বৃদ্ধ বাবা এবং তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর বাবা বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার দাবি করছেন।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ছেলে মো. মহির উদ্দীন বলেন, “আমি জমি প্রতারণা করে লিখে নিইনি। বাবা স্বেচ্ছায় আমাকে লিখে দিয়েছেন। বাবাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সত্য নয়।”
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আরিফুর রহমান বৃদ্ধ বাবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”



