পিরোজপুরে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট কোচিংয়ে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।১৭ জুন ২০২৬, বুধবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের এই বহিষ্কারাদেশ বা সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এর আগে গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়া তার লিখিত জবাব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় বুধবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ মে ২০২৬ তারিখে ওই ভুক্তভোগী দশম শ্রেণির ছাত্রী সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের কাছে প্রাইভেট কোচিংয়ে পড়তে গেলে প্রথম যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে গত ১৫ জুন সোমবার পিরোজপুর শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এই ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসতে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, ‘গত ২২ মে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলার কারণে সময় মত স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পারেনি। ঘটনার অনেক পরে ৯ জুন বিষয়টি সবার নজরে আসে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, ঘটনাটির সামগ্রিক সত্যতা উদ্ঘাটন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বুধবার পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইসরাত জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই নবগঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



